Sports & Physical Traning

 


Book Keeping & Accounting

 


Customs Module

 


VAT Module

 







36th Foundation Course All Questions-Bangladesh Customs Excise & Vat Tranning Academy,Sagorica Road Chaittagong

 Bangladesh Customs Excise & Vat Tranning Academy,Sagorica Road Chaittagong

বিড়ি, সিগারেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কী রেয়াত পাবে ? মূসকের আদর্শ হার অনুসরণ না করে আমদানির উপর পরিশোধিত মূসক রেয়াত নিতে পারবে কি? ডলার যদি রিয়ালাইজড না হয়ে থাকে তবে মূসক আইনের বিধান কি হবে?

 

Question

বিড়ি, সিগারেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কী রেয়াত পাবে ?

Answer- 
জ্বি, রেয়াত পাবে। 
২০১২ সালে যখন নতুন ভ্যাট আইন প্রণীত হয়, তখন বিধান ছিল যে, তামাকজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রেয়াত পাবে না। পরবর্তীতে এই বিধান বাতিল করা হয়েছে।

 Question- 
মূসকের আদর্শ হার অনুসরণ না করে  আমদানির উপর পরিশোধিত মূসক রেয়াত নিতে পারবে কি?

Answer-
দুই ধরনের নিবন্ধিত ব্যক্তি রেয়াত নিতে পারেন। এক হলো, যিনি ১৫ শতাংশ হারে আউটপুট ভ্যাট পরিশোধ করেন। আর দুই হলো, যিনি শূন্য হারে আউটপুট ভ্যাট পরিশোধ করেন অর্থাৎ রপ্তানিকারক, প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারক এবং পশচাদ-সংযোগ শিল্প প্রতিষ্ঠান।

Question- 
কোন অনাবাসিক ও অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বাংলাদেশের কোন প্রতিষ্ঠান ওয়ারেন্টি সার্ভিস প্রদান করে থাকে। এক্ষেত্রে পার্টস এবং সেবার মূল্য বিদেশী প্রতিষ্ঠান থেকে রেমিট্যান্স আকারে গ্রহণ করে থাকে। সার্ভিসিং এর জন্য প্রয়োজনীয় পার্টস প্রতিষ্ঠানটি ১৫% মূসক পরিশোধ করে সংগ্রহ করে থাকে। এর বিপরীতে নিয়মিত রেয়াত নিয়ে থাকে। সরবরাহকৃত সেবাকে প্রচ্ছন্ন রপ্তানি হিসেবে দাখিলপত্রে প্রদর্শন করে। বিদেশী প্রতিষ্ঠানের কাছে বিল প্রেরণ করার সময় পার্টস এবং সার্ভিস চার্জের জন্য আলাদা ইনভয়েস ইস্যু করে।

এক্ষেত্রে ১) মূসক আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের আবশ্যিকভাবে পরিপালনীয় বিষয়গুলো কী? 
২) মূসক দপ্তর কী কী দলিলাদির ভিত্তিতে প্রচ্ছন্ন রপ্তানি হয়েছে কিনা তা যাচাই করতে পারে?
৩) বিদেশী প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স আসার পুরো প্রক্রিয়া কী হবে এবং এর স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় দলিলাদি কী সংরক্ষণ করবে?
৪) আবার অনাবাসিক নিবন্ধিত ব্যাক্তির পক্ষে ওয়ারেন্টি সার্ভিস দিয়ে প্রচ্ছন্ন রপ্তানি দাবী করলে এক্ষেত্রে পরিপালনীয় বিষয় কী হবে?

Answer-
ভ্যাট আইনের ধারা ২৩, ২৪ দয়া করে দেখুন। ২৩ পণ্য রপ্তানি এবং ২৪ সেবা রপ্তানি সংক্রান্ত। এই দুটি ধারা অনুসারে অনাবাসিক ব্যক্তির ওয়ারেন্টির বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়ে পণ্য ও সেবা সরবরাহ রপ্তানি হিসাবে বিবেচিত হবে।

একজন নিবন্ধিত ব্যক্তির যে সব ভ্যাট দলিলাদি সংরক্ষণ করতে হয়, রপ্তানিকারককে সেসব কিছু সংরক্ষণ করতে হবে। অতিরিক্ত হিসাবে বৈদেশিক মুদ্রায় মূল্য প্রাপ্তির প্রমাণস্বরুপ ব্যাঙ্ক কর্তৃক ইস্যুকৃত পিআরসি সংরক্ষণ করতে হবে ‌ 

Question
একটি প্রতিষ্ঠান প্রতিমাসে নিয়মিতভাবে উপজাত/বর্জ্য(মূসক ৪.৬) সরবরাহের জন্য বিভাগীয় দপ্তরে আবেদন করেন। বিভাগীয় কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী উক্ত মূসক ৪.৬ এর আবেদনে উল্লেখিত উপজাত/বর্জ্য এর সরবরাহ মূল্য নির্ধারণ ও নিষ্পত্তি করার বিধান রয়েছে। কিন্তু উক্ত উপজাত /বর্জ্য এর সরবরাহ মূল্য ন্যায্য বাজার বিধিমালার বিধি -০৬ অনুযায়ী নির্ধারণযোগ্য। তবে বিভাগীয় কর্মকর্তার নায্য বাজার মূল্য নির্ধারণের ক্ষমতা অর্পণ করা নাই,কমিশনার দপ্তরে নায্য বাজার মূল্য নির্ধারণের জন্য প্রেরণ করা হলে কমিশনার স্যার কি পুনরায় উক্ত আবেদন নিষ্পত্তির জন্য বিভাগীয় দপ্তরে প্রেরণ করবেন। এমতাবস্থায় কিভাবে উক্ত ঘোষণা নিষ্পত্তি করা সম্ভব? এছাড়া উক্ত ঘোষণা কতদিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে আইন/ বিধিতে তা উল্লেখ করা থাকলে ভালো হত।

Answer
এখানে একই রকম ৩টা বিধি আছে। দুটো বিধিতে বিভাগীয় কর্মকর্তা কর্তৃক মূল্য অনুমোদন করতে বলা হয়েছে। একটা বিধিতে ন্যায্য বাজার মূল্য নির্ধারণ বিধিমালার বিধি ৬ অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। এই কাজ কমিশনারের দপ্তরের। উক্ত বিধিতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। তবে,   এখানে ৩টা বিধিতে ৩টা বিষয় উল্লেখ আছে। একটা হলো, বিনষ্ট উপকরণ নিষ্পত্তি। একটা হলো, বিনষ্ট পণ্য নিষ্পত্তি। একটা হলো, ওয়েস্ট ও বাই-প্রোডাক্ট নিষ্পত্তি। এসব বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে এখনো ইউনিফর্ম প্র্যাকটিস গড়ে ওঠেনি। আমাদের এই গ্রুপের একটা উদ্দেশ্য হলো, ভ্যাট ব্যবস্থাপনায় ইউনিফর্ম প্র্যাকটিস প্রবর্তন করা।

Question
নির্বাচন অফিস থেকে মালামাল কেন্দ্রে পাঠানোর জন্য যে পরিবহন ভাড়া নেয়া হয় সেক্ষেত্রে ভাড়ার উপর কত শতাংশ ভ্যাট কর্তন হবে এবং এর সেবা কোড কত ?? 
ঢাকা থেকে মালামাল নির্বাচন অফিসে পাঠালে এ ক্ষেত্রেও কত শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য হবে এবং কোড কত ?? 

Answer
যদি দুটি সেবার সংজ্ঞা দেখেন তাহলে বিষয়টা স্পষ্ট হবে। পরিবহন ঠিকাদার সেবা (এস০৪৮.০০) আর যানবাহন ভাড়া প্রদানকারী সেবা (এস-০৪৯.০০)। পরিবহন ঠিকাদার সেবার মূল কথা হলো, কাউকে পণ্য পরিবহন করার দায়িত্ব দেয়া। আর যানবহান ভাড়া প্রদানকারী সেবার মূল কথা হলো, কারোর নিকট থেকে যানবাহন ভাড়া নেয়া। এখন আপনাকে দেখতে হবে যে, নির্বাচন অফিস কিভাবে কাজটা করাচ্ছে। তারা যদি মালামালগুলো পরিবহন করার জন্য কাউকে দায়িত্ব প্রদান করে তাহলে পরিবহন ঠিকাদার সেবা হবে, ভ্যাট হার ১০%। আর নির্বাচন অফিস যদি গাড়ি ভাড়া নেয়, তাহলে যানবাহন ভাড়াপ্রদানকারী সেবা হবে, ভ্যাট হার ১৫%। যানবাহন ভাড়া নিলে ভাড়া নেয়ার প্রক্রিয়া রয়েছে। কাউকে পরিবহন করার দায়িত্ব দিলে তারও প্রক্রিয়া রয়েছে। সরকারি অফিসে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসারে ক্রয়কাজ সম্পাদন করতে হয়। সে প্রক্রিয়া দেখে আমাদের নিশ্চিত হতে হবে যে, নির্বাচন অফিস কোন সেবা নিয়েছে, সেখানে ভ্যাট হার কতো শতাংশ। 

Question
ডলার যদি রিয়ালাইজড না হয়ে থাকে  তবে মূসক আইনের বিধান কি হবে?

Answer
রপ্তানি/প্রচ্ছন্ন রপ্তানি উভয় ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ ব্যাংকের গাইড লাইন অনুযায়ী ১২০ দিনের মধ্যে ডলার রিয়ালাইজড না হলে মূসক আইন মোতাবেক ভ্যাট আদায়যোগ্য।



নারী উদ্যোক্তার বাড়ি ভাড়ার ভ্যাট মওকুফ বিষয়ে জটিলতা নিরসণ

 

ভ্যাট টিপস-০৯৮/২০২৩

বিষয়: নারী উদ্যোক্তার বাড়ি ভাড়ার ভ্যাট মওকুফ বিষয়ে জটিলতা নিরসণ।

এসআরও নং-১৩৬-আইন/২০২৩/২১৩-মূসক অনুসারে, নারী উদ্যোক্তা কর্তৃক পরিচালিত ব্যবসার শো-রুমের ভাড়া ভ্যাটমুক্ত। এ বিষয়টা নিয়ে প্রশ্ন আসে যে, যদি নারী উদ্যোক্তা পার্টনার হন, অর্থাৎ নারী উদ্যোক্তার অংশ ধরুন ৪০%, ৫০% বা ৬০% হয়, তখন কি হবে? আরো প্রশ্ন হলো, ব্যবসার শো-রুম বলতে কি বোঝায়? নারী উদ্যোক্তা সেবা প্রদানকারী হলে এই সুবিধা পাবেন কিনা। উল্লেখ্য, ভ্যাট ব্যবস্থায় মূলত উৎপাদনকারী, ট্রেডার এবং সেবা প্রদানকারী এই তিনভাগে উদ্যোক্তাদের বিভক্ত করা হয়েছে। উৎপাদনস্থল ভাড়া নেয়া হলে তা সবার ক্ষেত্রেই ভ্যাটমুক্ত। বাকি থাকে ট্রেডিং এবং সেবা প্রদান।

কাস্টমস আইনের অধীন জেনারেল রুলস ফর ইন্টারপ্রিটেশন (জিআইআর) এ এমন একটা বিধান রয়েছে যে, কোনো পণ্যের বেশিরভাগ অংশ যদি কোনো এক প্রকৃতির হয়, তাহলে সেই পণ্যটা সেই প্রকৃতি অনুসারে শ্রেণীবিন্যাস করতে হবে। ধরুন, একটা কাপড়ের ৭০% কটন আর ৩০% সিনথেটিক। এই কাপড়কে কটনের তৈরি বলে বিবেচনা করতে হবে। তাহলে একটা প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগ অংশের মালিকানা যদি নারীর হয়, তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানকে নারী উদ্যোক্তার প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করা যায়। 

কেউ কেউ বলে থাকেন যে, নারী উদ্যোক্তার শুধুমাত্র ব্যবসার শো-রুমের ভাড়ার ক্ষেত্রে ভ্যাট মওকুফ করা হয়েছে। সেবাপ্রদানস্থলে ভ্যাট মওকুফ প্রযোজ্য হবে না।  এ ধরনের বক্তব্য সঠিক নয়। আমার (ড. মোঃ আব্দুর রউফ)   মতে, এখানে “ব্যবসা” এবং “শো-রুম” শব্দসমূহ সাধারণ অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। ভ্যাট আইনে শো-রুমের সংজ্ঞা নেই। তাই, “শো-রুম” সাধারণ অর্থে ব্যবহৃত হবে। তবে, আমাদের দেশের ভ্যাট ব্যবস্থায় সেবার ক্ষেত্রেও শো-রুম হতে পারে। “তৈরি পোশাক বিপণন” হলো একটা সেবা। এই সেবার সংজ্ঞায় উল্লেখ রয়েছে যে, নিজস্ব শো-রুম থেকে বিক্রি করা। অর্থাৎ সেবার ক্ষেত্রেও শো-রুম হতে পারে। শো-রুম এর সাধারণ অর্থ হলে যেখানে কোনো কিছু প্রদর্শণ করা হয় এবং বিক্রি করা হয়। তাই, ব্যবসার শো-রুম বলতে এখানে ট্রেডিং এবং সেবা প্রদান উভয়কে বোঝানো হয়েছে বলে আমার অভিমত। 

লেজিসলেটিভ ইনটেনশন বলে একটা কথা আছে। এই বিধান মূলত পশ্চাৎপদ নারীদেরকে সুবিধা দেয়ার জন্য। যদি শুধুমাত্র শতভাগ নারীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান এই সুবিধা না পায়, এবং নারীর শতভাগ মালিকানার শো-রুম ছাড়া এই সুবিধা না পায়, তাহলে এই সুবিধা সীমিত হয়ে যায়। কারণ, শতভাগ নারীর মালিকানায় কম প্রতিষ্ঠান পাওয়া যাবে। সেবা প্রদানকারী বাদ দিলে এমন প্রতিষ্ঠান খুঁজে পাওয়া যাবে না। এটা কোনো সুবিধা হবে না যা ভোগ করার মতো মানুষ পাওয়া যায় না। লেজিসলেটিভ ইনটেনশন এমন হতে পারে না। যদি ৫০% এর বেশি অংশ নারীর মালিকানায় হলে বাড়ি ভাড়া মওকুফের সুবিধা দেয়া হয়, তাহলে পুরূষেরা নারীর সাথে অংশীদারী কারবার স্থাপন করতে উৎসাহী হবেন। এতে নারীর ক্ষমতায়ন হবে। লেজিসলেটিভ ইনটেনশন সম্ভবত এমন পারে। নারী উদ্যোক্তাগণ সাধারণত বিউটি পার্লার, বুটিক শপ, পোষাক, হস্তশিল্প ইত্যাদি কাজের সাথে জড়িত। এগুলো ট্রেডিং এবং সেবা প্রদান উভয় ধরনের হয়ে থাকে। 

তাই, নারী উদ্যোক্তা কর্তৃক পরিচালিত ব্যবসার শো-রুম বলতে ট্রেডিং প্লেস এবং সেবা প্রদানের স্থান উভয়কে বোঝাবে এবং ৫০% এর বেশি অংশ নারীর মালিকানাধীন হলে সেই প্রতিষ্ঠানকে নারী উদ্যোক্তা কর্তৃক পরিচালিত হিসেবে বিবেচনা করতে হবে বলে আমার অভিমত। তবে, এ বিষয়ে রেগুলেটরী এজেন্সী অন্যবিধ ব্যাখ্যা বা মতামত প্রদান করলে তা প্রাধান্য পাবে। 

       ভ্যাট টিপস-০৯৯/২০২৩;

             বিষয়: নারী উদ্যোক্তার বাড়ি ভাড়ার ভ্যাট মওকুফ বিষয়ে জটিলতা নিরসণ।


টিপসটা ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। আমার সাথে অনেকে যোগাযোগ করেছেন, ধন্যবাদ দিয়েছেন। অনেকে উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেছেন যে, স্যার দীর্ঘদিনের একটা সমস্যা আপনি সমাধান করলেন। সবচেয়ে আনন্দের একটা তথ্য দিলেন জনাব মোঃ আরশেদ আলী। তিনি এনবিআর এর সনদপ্রাপ্ত ভ্যাট কনসালট্যান্ট। তিনি জানালেন যে, জাতীয় শিল্পনীতি, ২০২২ এ এমন একটা বিধান আছে যে, নারীর মালিকানা ৫১ শতাংশ হলেই তাঁকে নারী উদ্যোক্তা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।   

জাতীয় শিল্পনীতি, ২০২২ এর অনুচ্ছেদ ৩.৪ মোতাবেক “যদি কোন নারী ব্যক্তিমালিকানাধীন বা প্রোপ্রাইটরী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে স্বত্বাধিকারী বা প্রোপ্রাইটর হন কিম্বা অংশীদারী প্রতিষ্ঠান বা জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে নিবন্ধিত প্রাইভেট কোম্পানির পরিচালক বা শেয়ার হোল্ডারগণের মধ্যে অন্যূন (ন্যূনতম) ৫১% (শতকরা একান্ন ভাগ) অংশের মালিক হন তাহলে তিনি নারী শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে পরিগণিত হবেন।”

জাতীয় শিল্পনীতির উক্তরূপ বিধানের ফলে আর কোনো অস্পষ্টতা থাকে না। তাই, কোনো ট্রেডিং বা সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে নারীর মালিকানা যদি ৫১% বা তার চেয়ে বেশি হয়, তাহলে তিনি নারী উদ্যোক্তা হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং সেই স্থান ভাড়া নেয়া হলে ভাড়ার ওপর ভ্যাট প্রযোজ্য হবে না। তবে, এ বিষয়ে রেগুলেটরী এজেন্সী যদি অন্যবিধ ব্যাখ্যা বা মতামত প্রদান করে তাহলে তা প্রাধান্য পাবে।  

প্রশ্ন: বাণিজ্যিক আমদানিকারকের অপ্রদর্শিত আমদানি ও সরবরাহ সম্পর্কিত। কখনো কখনো দেখা যায় যে, কোন কোন আমদানিকারক তাদের আমদানিকৃত পণ্য দাখিলপত্রে সম্পূর্ণরূপে প্রদর্শন করে না এবং সেই পণ্যের সরবরাহও প্রদর্শন করে না। অর্থাৎ ভ্যাট অপ্রদেয় থেকে যায়। এক্ষেত্রে এমআইএস ডেটা থেকে আমদানি তথ্য নিয়ে আমদানিকারকের ভ্যাটের দায় নির্ণয় করা হয়।

প্রশ্ন-১: আমদানিকৃত অপ্রদর্শিত পণ্যের ভ্যাটের দায় নির্ণয়ের ক্ষেত্রে আমদানি মূল্যের সাথে সংযোজন আরোপ করতে হবে কি না? সংযোজন আরোপ করা হলে তা কীভাবে (কত শতাংশ হারে) আরোপ করতে হবে?

প্রশ্ন-২: অপ্রদর্শিত সরবরাহের উপর কত শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ করতে হবে?

উত্তর: এই পণ্যে সাধারণত যেমন সংযোজন হয় তেমন সংযোজন ধরতে হবে। এই পণ্যের আরো আমদানিকারক ও বিক্রেতা থাকতে পারে। তাদের সংযোজন কেমন হয় সেটা বিবেচনা করা যায়। 
ব্যবসায়ী পর্যায়ে রেয়াত নিলে ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশ। রেয়াত না নিলে ৫ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে রেয়াত নেয়া হয়নি। তাই, ৫ শতাংশ ভ্যাট নির্ণয় করা যায়।

Definition The Act Of VAT & SD -2012, under the Section of - 2

 

  (২১) “উৎসে কর কর্তনকারী সত্তা” অর্থ-

   (ক) কোন সরকারি সত্তা;

   (খ) এনজিও বিষয়ক ব্যুরো বা সমাজ সেবা অধিদপ্তর কর্তৃক অনুমোদিত কোন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান;

   (গ) কোন ব্যাংক, বীমা কোম্পানী বা অনুরূপ আর্থিক প্রতিষ্ঠান;

   (ঘ) কোন মাধ্যমিকোত্তর (post secondary) শিক্ষা প্রতিষ্ঠান;

   (ঙ) কোন পাবলিক লিমিটেড কোম্পানী; বা

   (চ) বৃহৎ করদাতা ইউনিট (মূল্য সংযোজন কর) এর আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠান;


(৪৮) “তালিকাভুক্তিসীমা” অর্থ কোন ব্যক্তির অর্থনৈতিক কার্যক্রমের টার্নওভার প্রতি ১২ (বার) মাস সময়ে ২৪ (চব্বিশ) লক্ষ টাকার সীমা, কিন্তু নিম্নবর্ণিত মূল্য উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না, যথা:-

 (ক) অব্যাহতিপ্রাপ্ত সরবরাহের মূল্য;

 (খ) মূলধনী সম্পদের বিক্রয় মূল্য;

 (গ) অর্থনৈতিক কার্যক্রমের প্রতিষ্ঠান বা উহার কোন অংশবিশেষের বিক্রয় মূল্য; বা

 (ঘ) অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ করিবার ফলশ্রুতিতে কৃত সরবরাহের মূল্য;


(৪৯) “দলিল” অর্থে নিম্নবর্ণিত বস্তু অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:-

(ক) কোন কাগজ বা অনুরূপ কোন বস্তু যাহার উপর অক্ষর, সংখ্যা, প্রতীক বা চিহ্নের মাধ্যমে কোন লেখনী প্রকাশ করা হয়; বা

(খ) কোন ইলেক্ট্রনিক উপাত্ত, কম্পিউটার প্রোগ্রাম, কম্পিউটার ফিতা, কম্পিউটার ডিস্ক বা অনুরূপ কোন ডিভাইস (device) যাহা উপাত্ত ধারণ করিতে পারে;


(৫৭) “নিবন্ধনসীমা” অর্থ কোন ব্যক্তির অর্থনৈতিক কার্যক্রমের টার্নওভার প্রতি ১২ (বার) মাস সময়ে ৮০ (আশি) লক্ষ টাকার সীমা, কিন্তু নিম্নবর্ণিত মূল্য উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না, যথা:

(ক) অব্যাহতিপ্রাপ্ত সরবরাহের মূল্য;

(খ) মূলধনী সম্পদের বিক্রয় মূল্য;

(গ) অর্থনৈতিক কার্যক্রমের প্রতিষ্ঠান বা উহার কোন অংশের বিক্রয় মূল্য; বা

(ঘ) অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ করিবার ফলশ্রুতিতে কৃত সরবরাহের মূল্য;

মুদ্রাস্ফীতি কি ? মুদ্রাস্ফীতি কেন ঘটে ? মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের উপায় কী ? মুদ্রাস্ফীতি প্রভাব

 

মুদ্রাস্ফীতি

কোন কালপরিধিতে পণ্য ও সেবার মূল্য টাকার অঙ্কে বেড়ে গেলে অর্থনীতির ভাষায় তাকে মুদ্রাস্ফীতি বলা হয়। সাধারণত পণ্য/সেবার দাম বেড়ে গেলে স্থানীয় মুদ্রা দিয়ে ঐ পণ্য/সেবা ক্রয়ে বেশি পরিমাণ মুদ্রার প্রয়োজন হয় কিংবা একই পরিমাণ মুদ্রা দিয়ে কোনো পণ্য/সেবা কিনতে গেলে আগের চেয়ে পরিমাণে কম পাওয়া যায়। সুতরাং মুদ্রাস্ফীতির ফলে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কমে যায় অথবা আমরা এক কথায় বলতে পারি অধিক মুদ্রার প্রচলনকে মুদ্রাস্ফীতি বলে। একই ভাবে অর্থনীতিতে পণ্যের আসল বিনিময়মূল্য কমে যায়। সাধারণত মুদ্রাস্ফীতি সূচকের মাধ্যমে হিসাব করা হয় যাকে মুদ্রাস্ফীতি সূচক বলা হয়।


মুদ্রাস্ফীতি,মুদ্রাস্ফীতি কেন ঘটে,মুদ্রানীতি,inflation rate,Money Inflation Bangladesh,bangladesh bank,
অতিরিক্ত মাত্রায় টাকা ছাপায় তখনই মুদ্রাস্ফীতি ঘটে

মুদ্রাস্ফীতি,মুদ্রাস্ফীতি কেন ঘটে,মুদ্রানীতি,inflation rate,Money Inflation Bangladesh,bangladesh bank,








মূল্যস্ফীতি অর্থনীতির একটি স্বাভাবিক চিত্র হলেও বড় ধরণের মুদ্রাস্ফীতিকে অর্থনীতির জন্য অভিঘাত হিসেবে দেখা হয়। মুদ্রাস্ফীতি বলতে বোঝায় পণ্য ও সেবার দাম বেড়ে যাওয়াকে। যা সাধারণত ঘটে অতিরিক্ত মুদ্রা সরবরাহের কারণে। সহজ ভাষায় বললে, একটি দেশের বাজারে পণ্যের মজুদ এবং মুদ্রার পরিমাণের মধ্যে ভারসাম্য থাকতে হয়। যদি পণ্যের তুলনায় মুদ্রার সরবরাহ অনেক বেড়ে যায় অর্থাৎ দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক অতিরিক্ত মাত্রায় টাকা ছাপায় তখনই মুদ্রাস্ফীতি ঘটে।

এর ফলে একই পরিমাণ পণ্য কিনতে আপনাকে আগের চাইতে বেশি মুদ্রা খরচ করতে হবে। এর মানে জিনিষপত্রের দাম বেড়ে যাবে। সব মিলিয়ে ওই মুদ্রার মান বা ক্রয়ক্ষমতা কমে যাবে।

ধরুন, গত বছর ২০ কেজি চাল কিনতে আপনার খরচ হতো ১০০০ টাকা। কিন্তু চলতি বছর সেই একই পরিমাণ চাল কিনতে আপনার খরচ পড়ছে ১০৫০ টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে ৫০ টাকা বা ৫% বেশি টাকা লাগছে। এই ৫% হল মুদ্রাস্ফীতির পরিমাণ। এর মানে টাকার মানও ৫% কমে গিয়েছে। এভাবে একটি নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার দামের পরিবর্তন হিসাব করে মুদ্রাস্ফীতি পরিমাপ করা হয়। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মুদ্রাস্ফীতি যদি ওই দেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধির চেয়ে কম থাকে তাহলে সেটার তেমন নেতিবাচক প্রভাব থাকে না।

সাধারণত ২ থেকে ৫ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতি থাকলে সেটাকে সহনীয় বলা যায়। ৭ থেকে ১০ শতাংশ হলে মধ্য ও নিম্নবিত্ত আয়ের মানুষের কষ্ট বেড়ে যাবে। এবং এর চাইতে বেশি মুদ্রাস্ফীতি পুরো দেশের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তবে এটা নির্ভর করছে সেই দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর। তবে হাতে গোনা কয়েকটি পণ্য ও সেবার মূল্য বাড়লেই সেটাকে মুদ্রাস্ফীতি বলা যাবে না। যদি সামগ্রিকভাবে পণ্য ও সেবার মূল্য বাড়ে তাহলেই বুঝতে হবে মুদ্রাস্ফীতির কারণে এমন হয়েছে।

মুদ্রাস্ফীতি কেন ঘটে

মুদ্রাস্ফীতির প্রধান কারণ হল মুদ্রার সরবরাহ বেড়ে যাওয়া। এছাড়া আরও কিছু কারণ রয়েছে।

👉 প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও যুদ্ধ

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও যুদ্ধের কারণে পণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয় ফলে সংকট দেখা দেয়, যার প্রভাব দামে গিয়ে পড়ে। এছাড়া যুদ্ধে লিপ্ত রাষ্ট্রগুলো যুদ্ধে বিনিয়োগের জন্য প্রচুর অর্থ ছাপিয়ে থাকে, সেটাও মুদ্রার সরবরাহ বাড়িয়ে দেয়।

👉পণ্য ও সেবা সরবরাহ

বাজারে যদি কোন পণ্য ও সেবার চাহিদা বেড়ে যায় এবং সে অনুযায়ী সরবরাহ না থাকে, তখন দাম বেড়ে যায়। আবার কোনও জিনিস তৈরি করতে যে সামগ্রী লাগে তার দাম বাড়লেও মূল পণ্যের দাম বেড়ে যায়। আবার যদি একটি দেশের জনসংখ্যা অনুপাতে পণ্য ও সেবা সরবরাহ পর্যাপ্ত না থাকলেও দামে এর প্রভাব পড়ে। দেশের অর্থনীতি প্রবলভাবে নির্ভরশীল জ্বালানি তেলের ওপর। কারণ যেকোনো পণ্য গ্রাহকের কাছে পৌঁছায় পেট্রোল বা ডিজেলে চালিত যানবাহনের মাধ্যমে। ফলে এই তেলের দামের প্রভাব সব পণ্যের ওপরেই কমবেশি পড়ে। সম্প্রতি ইউক্রেনে যুদ্ধ পরিস্থিতির একটা বড় প্রভাব পড়েছে জ্বালানি তেলের ওপর।

👉মুদ্রানীতি

সরকার যদি বিভিন্ন কারণে বেশি করে মুদ্রা ছাপাতে শুরু করে, এতে বাজারে মুদ্রার আধিক্য দেখা যায় অথচ জিনিসপত্রের যোগান না বাড়ায় পণ্য ও সেবার দাম বেড়ে যায়।

Inflation rate raise high

👉রাজস্ব নীতি

একটি দেশের সরকার সাধারণত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে খরচ করার জন্য বৈদেশিক ঋণ নিয়ে থাকে এবং সেই মুদ্রা যখন দেশের বাজারে আসে অথচ অন্যদিকে পণ্যের সরবরাহ আগের মতোই থাকে। তখন সেটার প্রভাবেও মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়।

👉 উন্নয়নমূলক কাজ

সরকারি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে যদি প্রচুর অর্থ ব্যয় করে এবং সে অনুপাতে যদি পণ্যের যোগান না বাড়ে তাহলে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়।

👉 সুদ

ব্যাংকগুলো সুদের হার কমিয়ে দিলে, মানুষ প্রচুর ঋণ নিতে শুরু করে। এতে বাজারে মুদ্রার সরবরাহ বেড়ে যায়। এতে মুদ্রাস্ফীতি ঘটে।

👉ভর্তুকি

সরকার বিভিন্ন খাতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ভর্তুকি দিলে কিংবা সরকার খরচ বাড়ালে সেই টাকা জনগণের পকেটে আসে। এর প্রভাবে জিনিষপত্রের দাম বেড়ে যায়।

👉 মজুরি

মজুরি বা বেতন বৃদ্ধিও মুদ্রাস্ফীতির বড় কারণ। সাধারণত মানুষের হাতে অতিরিক্ত অর্থ চলে আসলে তাদের পণ্য ও সেবার চাহিদা বাড়ে।

মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের উপায় কী

মুদ্রাস্ফীতির প্রধান কারণই হল অর্থের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া। সুতরাং অর্থের পরিমাণ কমালে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে জানিয়েছেন  অর্থনীতিবিদ ফাহমিদা খাতুন।  এক্ষেত্রে তিনি দেশের মুদ্রানীতি ও রাজস্ব নীতিতে পরিবর্তন আনার কথা বলেছেন।

👍মুদ্রানীতি

বাজারে অতিরিক্ত মুদ্রার সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে হারে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে টাকা ধার দেয় সেই ব্যাংক হার বাড়াতে পারে। এতে অন্য ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়িয়ে দেবে। ফলে নাগরিকরা ঋণ নেয়ার হার কমবে। এতে বাজারে যে অতিরিক্ত টাকা এসেছিল তা ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক খোলাবাজারে সরকারি ঋণপত্র বিক্রি করে কিংবা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য নগদ জমার অনুপাত বা সংরক্ষণ বাড়িয়ে দিয়ে ব্যাংক সৃষ্ট অর্থের পরিমাণ কমাতে চেষ্টা করে। এতে  বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণ দেয়ার ক্ষমতা কমে যায়। ফলে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ আসে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এভাবে আরও নানা উপায় ব্যাংক সৃষ্ট ঋণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

👍রাজস্ব নীতি

সরকার কর বাড়িয়ে দিলে কিংবা নতুন নতুন কর আরোপ করলে মানুষের ব্যয়যোগ্য আয়ের পরিমাণ কমে যাবে। ফলে  বাজারে আসা অতিরিক্ত মুদ্রা বেরিয়ে যাবে। এছাড়া সরকার বিভিন্ন অনুৎপাদনশীল খাতে খরচ কমিয়ে অন্যদিকে বাজারে চাহিদা মতো পণ্যের সরবরাহ বাড়াতে উৎপাদনশীল খাতে ভর্তুকি বাড়িয়ে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে।

মুদ্রাস্ফীতির সময় বাজারে দ্রব্যের যোগান বাড়াতে আমদানির পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে। এতে মুদ্রাস্ফীতির চাপ কমতে পারে। এ জন্য মুদ্রাস্ফীতির সময় সরকার আমদানি শুল্ক কমাতে পারে।

মুদ্রাস্ফীতি প্রভাব

মুদ্রাস্ফীতির প্রভাবে সমাজের এক শ্রেণীর মানুষ যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হন তেমনি আরেক শ্রেণী লাভের মুখ দেখেন।

 অর্থনীতিবিদরা বলছেন মুদ্রাস্ফীতির সবচেয়ে বিরূপ প্রভাব পড়ে সীমিত আয়ের মানুষের ওপর। তবে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিস্থিতি লাঘবে তৎপর হলে পরিস্থিতি খুব দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলে তারা মনে করছেন। সাধারণত কয়েকটি খাত এই মুদ্রাস্ফীতির কারণে ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাবের শিকার হয়।

✋ জীবনযাত্রার মান

মুদ্রাস্ফীতির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে মানুষের জীবনযাত্রার মানে। বিশেষ করে সীমিত আয়ের মানুষের ব্যাপক টানাপড়েনে পড়তে হয়। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় অনেকেই তাদের খরচের লাগাম টেনে ধরতে বাধ্য হন। তবে ব্যবসায়ী ও উৎপাদকগোষ্ঠী এর প্রভাবে লাভবান হয়ে থাবেন।

✋স্থির ও পরিবর্তনশীল আয়

কেউ যদি এমন কোন চাকরি করেন যেখানে বছর শেষে ইনক্রিমেন্ট বা বেতন বাড়ে না কিংবা বেতন বাড়লেও মুদ্রাস্ফীতির হারের তুলনায় কম তারা সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হয়ে থাকেন। কারণ এতে তাদের প্রকৃত আয়ে পণ্য ও সেবা কেনার ক্ষমতা কমে যায়। এছাড়া পেনশন, ব্যাংক হিসাব বা সঞ্চয়পত্রের সুদের ওপর নির্ভরশীল স্থির আয়ের মানুষরাও ক্ষতিগ্রস্ত হন। তবে পরিবর্তনশীল আয়ের ওপর নির্ভরশীল যারা যেমন ব্যবসায়ী, শেয়ারে বিনিয়োগকারী তারা লাভবান হয়ে থাকেন। কারণ মুদ্রাস্ফীতির কারণে অনেক কোম্পানির মুনাফার পরিমাণ বাড়ে ফলে তারা বেশি হারে মুনাফা বা লভ্যাংশ পান।

✋ঋণ

মুদ্রাস্ফীতি চলাকালীন ঋণগ্রহীতারা লাভবান হলেও ঋণদাতার ক্ষতিগ্রস্ত হন। যেমন: গত বছর 'ক' তার বন্ধু 'খ'-কে ১০০টাকা ঋণ দেয়। পরের বছর মুদ্রাস্ফীতি হল ৫% তাহলে সেই ১০০ টাকার মূল্য দাঁড়াবে ৯৫ টাকায়। তাই পরের বছর 'খ'-কে অর্থ ফেরত দিলেও সেটার ক্রয়ক্ষমতা ৫ টাকা কমে যায়।

✋আমদানি রপ্তানি

মুদ্রাস্ফীতির ফলে মুদ্রার মূল্য কমে যায়। সেই কারণে ওই দেশে উৎপন্ন পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি পায়। কিন্তু রপ্তানির মূল্যের কোন বদল হয় না। যেমন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে গত বছর ১০০ ডলারে ৫টি পণ্য নিতে পারতো। কিন্তু টাকার মান পড়ে যাওয়ায় তারা ওই ১০০ ডলার দিয়ে ৬টি বা ৭টি পণ্য কিনতে পারবে। ফলে তারা বেশি বেশি পণ্য কিনবে।

অন্যদিকে মুদ্রার মান পড়ে যাওয়ায় অন্য দেশ থেকে আমদানি কমে যায়। কারণ ওই একই জিনিষ কিনতে আগের চাইতে বেশি খরচ করতে হয়। এতে আমদানি নির্ভর দেশগুলোর ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

✋উৎপাদন ও কর্মসংস্থান

মুদ্রাস্ফীতির ফলে কাঁচামালের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক উৎপাদন খরচের ওপর এর প্রভাব পড়ে। ফলে জিনিষপত্রের দাম বেড়ে যায়। এমন অবস্থায় উৎপাদন কমার আশঙ্কা দেখা দেয়। উৎপাদন কমে গেলে অনেকের কর্মসংস্থান হারানোর আশঙ্কা থাকে।

✋গোপন মজুদ

বাজারে মুদ্রাস্ফীতি অব্যাহত থাকে অসাধু ব্যবসায়ীদের মধ্যে উৎপাদন না বাড়িয়ে গোপনে পণ্য মজুদের প্রবণতা দেখা যায়। অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের জন্যই তারা বাজারে এমন কৃত্রিম সংকট তৈরি করে রাখে।  যার কারণে নিম্ন আয়ের মানুষদের ব্যাপক ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। বাজারে পণ্য ও সেবার দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ, চাহিদামত রাখার ওপর জোর দিয়েছেন মিস খাতুন। এজন্য তিনি অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট যেন বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিতে না পারে সে ব্যাপারে সরকারকে সজাগ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। এক্ষেত্রে সরকার পণ্যসামগ্রী ও সেবার সর্বোচ্চ দামের সীমা বেঁধে দিতে পারে।

মুদ্রাস্ফীতি অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখলেও কোন দেশের জন্যই অতিরিক্ত ও দীর্ঘমেয়াদে মুদ্রাস্ফীতি ভালো ফল বয়ে আনেনি। তাই মুদ্রাস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে তৎপর থাকার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।

 

Causes ,Effect & Solutions of Money Laundering in Bangladesh/Trade-based Money Laundering/prevention of Money Laundering in Bangladesh

 

Causes of Money Laundering in Bangladesh

1. Weak Regulatory Framework: Bangladesh has faced challenges in establishing a robust regulatory framework to combat money laundering. The existing laws and regulations may be inadequate or ineffective in addressing the evolving nature of money laundering techniques.

2. Corruption: Corruption within the financial system and government institutions provides an enabling environment for money laundering. Corrupt officials may facilitate the movement of illicit funds or turn a blind eye to suspicious transactions.

3. Informal Economy: Bangladesh has a significant informal economy, which makes it easier for criminals to hide illicit funds. Cash-based transactions, undocumented businesses, and unregulated sectors provide opportunities for money laundering.

4. Trade-based Money Laundering: Trade-based money laundering, a common method used in Bangladesh, involves manipulating import-export transactions to move illicit funds. Over-invoicing, under-invoicing, and false invoicing are techniques used to disguise the true nature of transactions.

5. Lack of Technological Infrastructure: The lack of advanced technological infrastructure in financial institutions makes it difficult to detect and prevent money laundering. Outdated systems and limited resources hinder effective monitoring and analysis of transactions.

6. Cross-border Transactions: Bangladesh's geographical location and porous borders make it vulnerable to cross-border money laundering. Criminals take advantage of global financial systems to move funds across jurisdictions, making it challenging for authorities to track and seize illicit assets.

7. Shell Companies: The creation of shell companies is a common method used for money laundering. Weak regulations and lax enforcement allow criminals to establish fictitious entities to disguise the true ownership and control of assets.

8. Lack of International Cooperation: Money laundering is a global issue that requires international cooperation to combat effectively. Limited cooperation and coordination with other countries hinder Bangladesh's efforts to investigate and recover laundered funds.

9. Insufficient Resources and Capacity: Law enforcement agencies and regulatory bodies in Bangladesh may face resource constraints and lack adequate training and capacity to effectively combat money laundering. This limits their ability to detect and investigate complex money laundering schemes.

10. Limited Public Awareness: Lack of public awareness about the consequences of money laundering and the importance of reporting suspicious activities hinders efforts to combat the issue. Educating the public about the impact of money laundering and the role individuals can play in reporting suspicious transactions is crucial.

                What is the Negative effects of Money Laundering in Bangladesh?

Money laundering has numerous negative effects on Bangladesh. Here are 10 main negative effects of money laundering in Bangladesh:

1. Economic Damage: Money laundering undermines the economy of Bangladesh by distorting the market, reducing competition, and discouraging foreign investments. It hampers economic growth and development.

2. Loss of Tax Revenue: Money laundering deprives the government of tax revenue; as illicit funds are often not reported or taxed. This limits the government's ability to provide essential services and invest in public infrastructure.

3. Financial Instability: Money laundering poses a significant risk to the stability of the financial system in Bangladesh. Illicit funds can infiltrate banks and other financial institutions, leading to increased vulnerability to fraud, corruption, and financial crimes.

4. Corruption and Bribery: Money laundering fosters corruption and bribery within the country. Illicit funds are often used to bribe public officials, compromising the integrity of government institutions and hindering the rule of law.

 5. Impeded Development: Money laundering diverts resources away from productive sectors of the economy, such as education, healthcare, and infrastructure development. This impedes the overall development of Bangladesh and negatively impacts the standard of living.

6. Social Inequality: Money laundering exacerbates social inequality in Bangladesh. Illicit funds often come from criminal activities, such as drug trafficking and human smuggling, which disproportionately affect marginalized communities. Money laundering perpetuates this inequality by allowing criminals to profit from their illegal activities.

7. Weakened Financial Institutions: Money laundering weakens the integrity and stability of financial institutions in Bangladesh. Illicit funds can infiltrate banks, making them vulnerable to reputational damage and loss of public trust. This can lead to a loss of confidence in the financial system and a decrease in foreign investments.

8. Increased Crime Rates: Money laundering is often associated with organized crime activities. These criminal networks engage in various illegal activities, such as drug trafficking, human trafficking, and terrorism financing. The presence of money laundering contributes to an increase in overall crime rates within the country.

9. Damage to Reputation: Money laundering tarnishes the reputation of Bangladesh on the international stage. It signals weaknesses in the country's financial systems and undermines investor confidence. This can lead to reduced foreign investment and limited access to international financing.

10. Global Consequences: Money laundering has global consequences beyond Bangladesh. It can facilitate the flow of funds to terrorist organizations and transnational criminal networks, threatening global security. Bangladesh's inability to effectively combat money laundering can negatively impact its relationships with international organizations and other countries.

 Addressing the negative effects of money laundering requires a comprehensive and coordinated effort involving government agencies, law enforcement, financial institutions, and international cooperation. Stricter regulations, enhanced enforcement, and public awareness campaigns are essential to mitigate the detrimental impact of money laundering in Bangladesh.

 

How can we solve prevention of Money Laundering in Bangladesh?

Preventing money laundering in Bangladesh requires a multi-faceted approach. Here are ten solutions:

1. Strengthening Anti-Money Laundering (AML) Laws: Enforce strict legislation that criminalizes money laundering and provides authorities with the necessary tools to prosecute offenders.

2. Enhanced Regulatory Oversight: Implement robust regulatory frameworks to monitor financial transactions and identify suspicious activities effectively.

3. Know Your Customer (KYC) Procedures: Mandate financial institutions to verify the identity of their customers and conduct due diligence to prevent illicit fund flows.

 4. Training and Capacity Building: Invest in training programs for law enforcement agencies, financial institutions, and other relevant stakeholders to enhance their understanding of money laundering risks and detection methods.

5. Collaboration and Information Sharing: Foster cooperation among government agencies, financial institutions, and international partners to exchange intelligence and coordinate efforts in combating money laundering.

 6. Transaction Monitoring Systems: Deploy advanced technology solutions, such as transaction monitoring systems and data analytics, to flag suspicious transactions in real-time.

7. Enhanced Customer Due Diligence (CDD): Implement stringent CDD measures, including ongoing monitoring of customer activities and transactions, to mitigate the risk of money laundering.

8. Public Awareness Campaigns: Educate the public about the dangers of money laundering and encourage reporting of suspicious activities to relevant authorities.

9. Enhanced Penalties and Enforcement: Impose severe penalties on individuals and entities involved in money laundering, including confiscation of illicit assets, to deter illicit financial activities.

10. International Cooperation: Strengthen cooperation with international organizations and neighboring countries to address cross-border money laundering activities effectively.

মূল্য পরিশোধ করা হয়নি, ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে কিনা। ক্রয় করা হয়েছে, মূল্য পরিশোধ করা হয়নি, রেয়াত পাওয়া যাবে কিনা, ইত্যাদি

 প্রশ্নটা হলো, বিক্রয় করা হয়েছে, মূল্য পরিশোধ করা হয়নি, ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে কিনা।  ক্রয় করা হয়েছে, মূল্য পরিশোধ করা হয়নি, রেয়াত পাওয়া যাবে...